বন্দীর নারীসঙ্গ কেলেংকারির জেরে ৪ কারা কর্মকর্তা প্রত্যাহার

single-news-image

কারাগারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মকানুন মানতে হয়

।। সায়েদুল ইসলাম।।        বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশের নারীর সঙ্গে এক কারাবন্দীর সময় কাটানোর ঘটনায় কাশিমপুর কারাগার-১ এর চার জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আরেকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলছেন, ”তদন্ত করে আমরা পাঁচ জনের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে চারজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি একজন সিনিয়র জেল সুপার হওয়ায় তাকে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তাকেও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে বলে আশা করছি।”

এর আগে এই ঘটনায় জেলার নূর মোহাম্মদ, ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর মোঃ. আবদুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়।


সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায়কে প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দোষী জেল সুপার, জেলারসহ জড়িত সব কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যে ঘটনার জেরে এই প্রত্যাহার

গত ৬ই জানুয়ারি একজন বন্দী এক নারীর সঙ্গে কারাগারের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা একান্তে সময় কাটান, সিসিটিভির এমন একটি ফুটেজ নিয়ে কয়েকদিন আগে সংবাদ প্রকাশ করে বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোর।

এরপর সিসিটিভির সেই ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

তবে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই এ নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন।

কারাগার
ছবির ক্যাপশান,কারাগারে নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরদারিতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার নিয়ম রয়েছে

ভিডিওতে যা দেখা গেছে

চ্যানেল টুয়েন্টিফোর চ্যানেলে প্রচার হওয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় কারাবন্দী তুষার আহমদের সঙ্গে দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে একজন নারী দেখা করতে আসেন।

তাকে একজন ডেপুটি জেলার পদমর্যাদার কর্মকর্তা অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। ১০ মিনিট পরে ওই কারাবন্দীকে আনা হয়।

পরে সেই কর্মকর্তার কক্ষে তারা একান্তে পৌনে এক ঘণ্টা সময় কাটান। এরপর সেই নারী কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে কারা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, কারাবন্দী তুষার আহমেদ তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন যে, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।

কারাগারে দেখা সাক্ষাতের নিয়ম

বাংলাদেশের কারাবিধি অনুসারে, কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কারাবন্দীর সঙ্গে কারা রক্ষীদের নজরদারিতে দেখা করা যায়। কিন্তু কোন কারাবন্দীর একান্তে সময় কাটানোর কোন সুযোগ নেই।

স্বজনদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেখা করতে হয়। সেই সময় তাদের সাথে অবৈধ কিছু রয়েছে কিনা, সেটাও পরীক্ষা করা হয়।

তবে কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন বলছেন, ”করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এখন কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা আছে। বিশেষ বিবেচনায় কারো সঙ্গে দেখা করতে হলে আইজি স্যারের অনুমতি নিয়ে দেখা করা যাবে।

“কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে কর্মকর্তাদের এরকম দেখা করতে দেয়ার ক্ষমতা নেই।”