শ্রমিকদের বিক্ষোভ: কারখানা বন্ধ করে পালালেন মালিক

single-news-image

টঙ্গীতে দুই পোশাক শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন কারখানার সহস্রাধিক শ্রমিক। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে নোটিশ টাঙিয়ে কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।  সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিস লাঠিপেটা করলে চারজন নারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।

পুলিস ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, গত ১২ ডিসেম্বর রেডিসন গার্মেন্ট কারখানার অপারেটর রনিকে বেধড়ক পেটায় লাইন চিফ সোলেমান ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী। পরে গত বৃহস্পতিবার কারখানার সামনে আয়রনম্যান শফিক মিয়া ও সুইং অপারেটর আফজাল হোসেনকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয় লাইন চিফ সোলেমান ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী।

এরপর গত শনিবার কারখানার ভেতরে সুইং সেকশনের শ্রমিক রনি ও লাইন চিফ সোলেমানের মধ্যে আবার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শ্রমিকরা বিষয়টি কারখানার মালিক আসাদুজ্জামান ও জিএম  সাজ্জাদ হোসেনকে জানান। শ্রমিকরা লাইন চিফ সোলেমানের অপসারণসহ শাস্তির দাবি জানালে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। ওই দিন রাতেই বাসায় ফেরার পথে কারখানার সামনে শ্রমিক সফিককে মারধর করে সোলেমান ও তাঁর লোকজন।

শনিবারের এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা কারখানার সামনে কর্মবিরতি পালন এবং ঘটনার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিক বিক্ষোভ এড়াতে মালিকপক্ষ রবিবার কারখানার মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আজ সকাল থেকে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে বিসিকের ফিডার রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকরা আশপাশের দিশারী গার্মেন্টস, জিন্স অ্যান্ড পোলো, এভার ফ্যাশন, পেট্রিয়ট, ইকো এবং রেডিসন অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে বিসিকের রাস্তায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিস লাঠিপেটা করলে আছমা, নুসরাত্, সানী ও রুমানা নামের চার শ্রমিক আহত হন। কালের কন্ঠ

ঘটনা সম্পর্কে কারখানাটির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘শ্রমিকদের এ অন্দোলন অযৌক্তিক। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি দক্ষিণ) নূরে আলম বলেন, ‘টঙ্গী বিসিক এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করতে চেয়েছিল বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তাদের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।’