বিশেষ সম্পাদকীয়: কেন তারা ন্যায্য পাওনা পাবেন না?

single-news-image
ঢাকা ডন সম্পাদকীয়

অনেক দিন ধরেই এশিয়ান টেলিভিশনের প্রাক্তন সংবাদসেবীরা তাদের প্রাপ্য ন্যায্য পাওনা আদায়ে রাজপথে নেমেছেন। ঘাম ঝরানো প্রাপ্য বেতন-ভাতা আদায়ে তাদেরকে কেন মানববন্ধনে যেতে হবে, ঘোষণা করতে হবে পরবর্তী কর্মসূচির। এটা খুবই দুঃখজনক যে, এশিয়ান টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ ফয়সালা মামলার মতো সাবেক সংবাদসেবীদের প্রাপ্য  ঝুলিয়ে রেখেছেন।

কোনো কোনো টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছ্বাচারিতায় ডুবে গিয়ে অন্যায় ও নীতিবহির্ভুতভাবে অনেক যোগ্য সংবাদসেবীকে চ্যানেলে ঢুকতে দেননি, এবং তাদেরকে আর্থিকভাবে বঞ্চিত  করেছেন। এটাও দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।

সংবাদসেবীরা নিজ নিজ সংসারকে বঞ্চিত করে দাবিদাওয়া আদায়ে সময় ব্যয়িত করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের মেধার অপচয় হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিবেকবান হলে বুঝতে পারবেন এতে কী ক্ষতি হচ্ছে এইসব সংবাদসেবকদের।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে−আজকে আমরা কোন্ প্রহসনের সমাজে বাস করছি। কেন বৈষম্যের সষ্টি করা হচ্ছে। কেন পুঁজিবাদীর বেড়াজালে আটকে রাখছি মনুষত্বকে। বিভিন্ন দক্ষতার অসংখ্য লোকবল একটি টিভি চ্যানেলে কাজ করে সেই চ্যানেলটিকে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে; তাহলে কি ধরে নেয়া যায় যে, টিভি চ্যানেলের নামটিই বড় কথা, কারা একে বড় করল, বা কাদের অবদান বেশি−এসব প্যারামিটার যাচাইয়ের বুদ্ধিমত্তা আমাদের নেই।

বেতন দিতে সমস্যা হলে রোবোট দিয়ে কাজ চালান, কিংবা অর্থকড়ির টান পড়লে বা কোনো কর্মীকে উদ্বৃত্ত মনে করলে, নিতান্তই ছাঁটাই করতে হলে  তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়ে তাকে বিদায় করুন। অযথা কাউকে হয়রান করার ম্যান্ডেট তো জনগণ আপনাদেরকে দেয়নি।

আশা করি, এশিয়ান টিভি চ্যানেল মানবিক দিকটি বিবেচনা করবেন, এবং প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবেন। তাতে সমাজে ভারসাম্য বজায় থাকবে।