প্লে-অফের পথে এগিয়ে যেতে কাল ঢাকার মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম

single-news-image

চট্টগ্রাম শেষে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আগামীকাল শুরু হচ্ছে ঢাকার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। দিনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-ঢাকা প্লাটুন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে চট্টগ্রাম-ঢাকার ম্যাচ। ঢাকার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে প্লে-অফের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবার লক্ষ্য চট্টগ্রামের। অপরদিকে, প্রথম পর্বে চট্টগ্রামের কাছে হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ঢাকা।
ঢাকার প্রথম পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে দু’টিতে জয় পায় চট্টগ্রাম। এরপর নিজেদের মাঠে প্রথম তিন ম্যাচেই জয় তুলে নেয় মাহমুদুল্লাহ-ইমরুলরা। তবে হার দিয়ে চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করতে হয় তাদের। রংপুর রেঞ্জার্সের কাছে ৬ উইকেটে ম্যাচ হারে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের অন্য হারটি, ঢাকা পর্বে খুলনা টাইগার্সের কাছে। চট্টগ্রাম পর্বে সিলেট থান্ডার (২বার)-রংপুর রেঞ্জার্স-ঢাকা প্লাটুন-কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জয় পায় বন্দর নগরীর দলটি। ফলে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৫টি জয় ও ২টি হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম। এতে প্লে-অফের পথে বেশ ভালোভাবেই রয়েছে তারা।
অন্তত আর দু’টি জয় পেলে প্লে-অফ পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হবে চট্টগ্রামের। তবে একটি জিতলেও অন্যান্য দলের হার/জিতেও প্লে-অফের সুযোগ হবে চট্টগ্রামের। তাই আগামীকাল ঢাকার বিপক্ষে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছেন না চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ইমরুল কায়েস, ‘আমাদের লক্ষ্য জয়। এ ম্যাচে জিতলে আমরা ৬টিতে জিতবো। ফলে প্লে-অফের আরও কাছে পৌঁছে যাবো আমরা। ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচের পর, আমাদের চারটি ম্যাচ থাকবে। তাই পরবর্তীতে আমরা নতুন পরিকল্পনা করবো। এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য ঢাকার বিপক্ষে জয়।’
ঢাকা পর্বে চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিলো ১৬৩ রান। কিন্তু নিজেদের কন্ডিশনে ভয়ংকর হয়ে উঠে চট্টগ্রাম। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রানের ফুলঝুড়ি ফুটায় তাদের ব্যাটসম্যানরা। ফলে ঢাকা প্লাটুন ও কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে পরপর দু’ম্যাচে যথাক্রমে ২২১ ও ২৩৮ রান করে তারা। তাই চট্টগ্রামের মত ঢাকাতেও একই উইকেট আশা করছেন ইমরুল। তবে ঢাকার প্রথম পর্বেও উইকেট ভালো ছিলো বলে জানান তিনি, ‘ঢাকার প্রথম পর্বে উইকেট বেশ ভাল ছিল। আশা করি, এ পর্বে আরও বেটার উইকেট থাকবে। কারণ শেরে বাংলার পিচগুলো একটা বড় সময় বিশ্রাম পেয়েছে। মনে হয় উইকেট আগের মত থাকবে। আগের মত থাকলেই ভাল। তখন আমরা খেলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবো। আমাদের খেলা সহজ হবে। ব্যাটসম্যানরা ভাল খেলতে পারবে। বোলাররাও স্বস্তিতে খেলবে। তাতে করে দর্শকরাও ভাল ক্রিকেট দেখতে পারবে। আমার আশা, আগের থেকে আরও ভালো উইকেট হবে।’
ঢাকার প্রথম পর্ব ও চট্টগ্রাম পর্ব শেষে ব্যাটসম্যানদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচের মধ্যে দেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন শুধুমাত্র ইমরুল। ৭ ম্যাচে ২৩৯ রান করেছেন ইমরুল। নিজের পারফরমেন্স নিয়ে ইমরুল বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি দলের চাওয়া অনুযায়ী খেলার। এখন আমার রান কত হলো এটা বড় কিছু না। টুর্নামেন্টে শেষে কে কত রান করেছে সেটা বড় হয়ে দেখা যেতে পারে। নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছি। ভারত সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলিনি এটা মানতেই হবে। ভারতের পার্টটা ওখানেই শেষ। ওটা নিয়ে চিন্তা করলে পিছিয়ে যেতে হবে। আমি ওটা নিয়ে মোটেও ভাবছি না।’
এদিকে, হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ঢাকা পর্বের শেষ দু’ম্যাচে ঠিকই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। তবে চট্টগ্রাম পর্বের শুরুতে আবারো হারের স্বাদ নেয় ঢাকা প্লাটুন। কিন্তু চট্টগ্রামে নিজেদের শেষ দু’ম্যাচেই ঠিকই জয় তুলে নেয় ঢাকা। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সকে ৫ ও সিলেট থান্ডারকে ৮ উইকেটে হারায় ঢাকা।
শেষ দুই ম্যাচে চমক দেখিয়েছেন ঢাকার স্পিনার মেহেদি হাসান। পিঞ্চ হিটার হিসেবে নেমে ৫৯ ও ৫৬ রান করেন তিনি। বল হাতে কম যাননি তিনি। ৯ রানে ২ ও ৩৩ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদি।
চট্টগ্রামের মাটিতে স্বাগতিকদের কাছে ১৬ রানে হারে মাশরাফির ঢাকা। তবে ঢাকার ঐ হার ছিলো লড়াইয়ের পর। চট্টগ্রামের ৪ উইকেটে ২২১ রানের জবাবে ২০৫ রান করে ম্যাচ হারে ঢাকা। তাই ঢাকার লক্ষ্য থাকবে চট্টগ্রামের বিপক্ষে জয় তুলে নেয়া। ঐ হারের প্রতিশোধ নেয়া। তাই ৬ ম্যাচে ৪ জয় ও ২ হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয়স্থানে রয়েছে ঢাকা।
ঢাকার পক্ষে ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। জ্বরের কারনে চট্টগ্রাম পর্বে ঢাকার প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। ৫ ম্যাচে ২টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০৪ রান করেন তামিম।