পদ্মা সেতু প্রাণী জাদুঘর: দুই হাজার নমুনা সংগ্রহ হয়েছে

single-news-image

দূর থেকে মনে হয়, গাছের পাতা খাচ্ছে হরিণ। শিয়াল তাকিয়ে আছে। আপনমনে হাঁটছে বাঘ। তবে কাছে গিয়ে দেখা যায়, বাস্তবে এসব ঘটছেই না। অর্থাৎ কোনো প্রাণী পাতা খাচ্ছে না বা হাঁটছে না। কারণ সেগুলো আসলে প্রাণীই নয়, প্রাণীর নমুনা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়ার দোগাছিতে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় অনন্য একটি প্রাণী জাদুঘর গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাওয়াসহ মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাণীর নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাজটি হচ্ছে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ সেতু বিভাগের অধীনে এই জাদুঘর উন্মুক্ত করা হবে পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকেই। ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ কর্মসূচি চলবে বলে জাদুঘর সূত্রে জানা গেছে।

দিন-রাত পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ চলছে মাওয়া ও জাজিরায়। মাওয়ায় নির্মাণযজ্ঞের ডামাঢোলে সম্প্রতি নীরবে দোগাছিতে গেলে দেখা মিলল এ জাদুঘরের। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ১৪৩টি প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান জাদুঘরের কিউরেটর আনন্দ কুমার দাস।

জীববৈচিত্র্য সংগ্রহ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর ৫৬টি নমুনা ও ৩৪ প্রজাতির পাখির ১৬২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ প্রজাতির উভচর প্রাণীর ৪৪ নমুনা। ২৫৭ প্রজাতির মাছের ৩০৩টি, ২৫৯ প্রজাতির শকুনজাতীয় কোমলাঙ্গের প্রাণীর ২৬০টি নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৯ প্রজাতির কঠিন আবরণের জলজ প্রাণীর ৬৪টি নমুনা জোগাড় করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ১৬০ প্রজাতির প্রজাপতি ও মথের ১৯৭টি নমুনাও দেখার মতো। পোকামাকড়ের ১৫৮ প্রজাতির ৩১৬টি নমুনা সংগ্রহের কাজও শেষ হয়েছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৭ প্রজাতির কীটপতঙ্গের ৫০টি নমুনা। ১৯ ধরনের পাখির বাসাও সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১১ ধরনের প্রাণীর ডিমও রয়েছে সংগ্রহে।

যতগুলো প্রাণীর নমুনা মিলেছে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে সংগ্রহ করা হচ্ছে জানিয়ে জাদুঘরের কিউরেটর আনন্দ কুমার দাস বলেন, ‘আমরা দেশি ও বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য এসব নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করছি। প্রাণীর দেহ সংরক্ষণে প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর বেশি নজর ও গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।’

সেতুটি চালুর দিন থেকেই জাদুঘর দেখতে পারবে দর্শনার্থীরা। সেতুটি আগামী ২০২৩ সালের জুন নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দেশী প্রাণীবৈচিত্র্যের নমুনা ও তাদের জীবন-ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করাই এ জাদুঘরের লক্ষ্য বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, শিক্ষাসফর ও বিনোদনের অবারিত সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে প্রাণীবৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত করে তুলবে এ জাদুঘর। তাঁদের দাবি, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের প্রাণীবৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচার এবং পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে সহায়ক হবে এ জাদুঘর। কালের কন্ঠ/পার্থ সারথি দাস