রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ২২ আগস্ট শুরু: শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ প্রস্তুত

single-news-image

ছবি: ডেইলি স্টার

প্রস্তুতির পরও গত বছরের ১৫ নভেম্বর ভেস্তে যাওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আবার শুরু করতে ফের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে এরই মধ্যে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ দফায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া তিন হাজার ৫৪০ রোহিঙ্গার দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের তরফ থেকে এখন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নিয়ে শঙ্কার জায়গাও আছে। কারণ রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফেরত যেতে অনিচ্ছুক।

গত ১৫ নভেম্বর একইভাবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের কারণে ভেস্তে যায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। তবে এবার তেমনটি হবে না বলে আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘ছোট আকারে’ হলেও রোহিঙ্গাদের একটি দল যেন চলতি মাসে মিয়ানমারে ফেরত যায় সে ব্যাপারে মধ্যস্থতা করছে চীন ও ভারত।

এদিকে বাংলাদেশ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা বললেও ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন শুরু হবে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ বিষয়ে বলেন, প্রত্যাবাসন যে কোনো সময় শুরু হবে। পর্দার অন্তরালে অনেক কিছুর চেষ্টা হচ্ছে। তবে সব চেষ্টা সফল হবে এমন নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করব, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যায়। এটি শুধু বাংলাদেশের না, এটি রোহিঙ্গাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য। যদি তারা ফিরে না যায়, তবে শুধু জমির অধিকার নয় তারা সব অধিকার হারাবে।

প্রত্যাবাসনের মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মুখ্য সমন্বয়ক এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যাবাসনের সঙ্গে অনেক কাজ জড়িত; সেগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন শুরু হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের দেওয়া অনাপত্তিপ্রাপ্ত তিন হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গার একটি তালিকা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির চুক্তির শর্তানুযায়ী, রাখাইনে স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব ইউএনএইচসিআরের।

আমাদের সময় কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে রবিবার জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন টাস্কফোর্সের সদস্যরা। এদিন দুপুরে কক্সবাজার শহরের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আলম নেজামী বলেন, ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়তো এ কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

বৈঠকে আরআরআরসি মোহাম্মদ আবুল কালাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত আরআরসি শামসুদ্দৌজা নয়ন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম সরওয়াল কামালসহ সেনাবাহিনী ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আমাদের সময়