কালশীতে ১০জনকে পুড়িয়ে হত্যা: তদন্তে পিবিআইকে চায় বিহারীরা

single-news-image

রাজধানির মিরপুরের কালশীতে ৯জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা ও একজনকে গুলি করে হত্যা মামলার তদন্তে অবহেলার অভিযোগ এনেছে বিহারীদের সংগঠন উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট (ইউএসপিওয়াইআরএম)। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব দ্রুত পুলিস ব্যুরো অব ইনভিস্টিগেশনকে (পিবিআই) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার মিরপুর ১১ বেনারশী পল্লী থেকে ভাসানী মোড় পর্যন্ত হাতে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে বিহারীদের সংগঠন ইউএসপিওয়াইআরএম। মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান বক্তারা।

সংগঠনটির সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কু বলেন, ‘এত বড় হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পার হলেও এখনো কোনো অপরাধী গ্রেপ্তার হয়নি। ৯ জন জীবিত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে ও একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আজ ৫ বছর পরেও আমাদের শুনতে হচ্ছে এই হত্যা মামলায় কাউকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হয়নি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার ব্যবহার। ২০১৪ সালে আমরা শুনেছিলাম অভিযুক্ত জুয়েল রানাসহ আরো ৪ জনকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সবকিছু হুট করে থেমে গেল।’

উর্দুভাষীরা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার এমন অভিযোগ করে বিহারীদের এই নেতা বলেন, ‘১জন মানুষ যদি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার জন্য বহু আইনজীবী ও মানবাধিকার সংস্থা নিজ উদ্যোগে মামলা করে। কিন্তু ১০জন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করলো অথচ এই নিষ্ঠুরতার বিচার চেয়ে কেউ মামলা করলো না। এর কারণ হচ্ছে আমরা উর্দুভাষী। যারা খুন হয়েছেন তাদের দুর্ভাগ্য তারা বাংলাদেশে জন্মেছিলেন এবং তারা উর্দুভাষী ছিলেন।’

ফাক্কু আরও বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যদি হত্যা মামলার তদন্ত শুরু না হয় তাহলে আমরা লাগাতার আন্দোলনে যাবো। আমরা যারা রাজপথে আছি তারা সবাই হাইকোর্টে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে রিট করবো।’

কালশী হত্যা ও কুর্মিটোলা ক্যাম্পে যে হামলার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে তাতে জুয়েল রানার ভাই রিপন, চাচাতো ভাই রুবেল ও তার রাজনৈতিক সহযোগীদের হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পে হামলা চালাতে দেখা যায়। তাদের গ্রেপ্তার করলেই আসল নির্দেশদাতাদের তথ্য পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ আলী বাবলু বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত না হলে প্রকৃত খুনিদের শাস্তি হবে না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দায়ের করা সকল মামলার তদন্তের দায়িত্ব অবিলম্বে পিবিআইকে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি এবং আমাদের নেতাকর্মী ও ক্যাম্পবাসীদের বিরুদ্ধে দেয়া সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’

এতে আরও বক্তব্য দেন মুহাজির ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সালাউদ্দিন, বিডিআরএমর সভাপতি ওয়াসি আলম বশির, ইউএসপিওয়াইআরএমের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর রেজা খান, নাজের উদ্দীন রাশেদ , উর্দুভাষী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ফাহিম হোসেন, সাধরণ সম্পাদক ইমরান খান, আসিফ ইকবাল, জামিল প্রমুখ। আমাদের সময়।