কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

single-news-image


‘নজরুল পুরস্কার কোনো অনুদান ও সহমর্মিতা নয়; এটি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও অর্জন’



পারভেজ রব,

সংগীতশিল্পী ও ঢাকা ডন বিশেষ প্রতিনিধি


কবি নজরুল ইন্সটিটিউট ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুক্রবার  (১৪ জুন)  বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও ‘নজরুল পুরস্কার ২০১৮’ প্রদান উপলক্ষে আলোচনাসভা, পুরস্কার বিতরণ ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ  জানান জাতীয় জাদুঘরে আবারও নজরুল কর্নার চালু হবে। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নজরুল ইনস্টিটিউটের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু করার তথ্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানটি সাজানো হয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নজরুল পুরস্কার দেয়ার মধ্য দিয়ে। নজরুল সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুই নজরুল সংগীতশিল্পী সেলিনা হোসেন ও যোসেফ কমল রড্রিক্সকে দেয়া হয় নজরুল পুরস্কার। আলোচনায় অংশ নেন কবির পৌত্রী ও ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খিলখিল কাজী। ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রাজ্জাক ভূঞা। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদার পক্ষে স্মারক বক্তৃতা পাঠ করেন তাঁর ছেলে মুসা হুদা।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পুরস্কার পাওয়া শিল্পীদ্বয়কে অভিনন্দন জানিয়ে আরও বলেন, নজরুল পুরস্কার কোনো অনুদান ও সহমর্মিতা নয়, এটি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের প্রাপ্য সম্মান ও অর্জন।

আলোচনা শেষে ছিল নজরুলের গান। এ পর্বে দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শিল্পীরা। উচ্চতর বিভাগের শিল্পীরা শোনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী’ ও ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে’   গান দুটি। সম্মেলক কণ্ঠে শিশু বিভাগের শিল্পীরা পরিবেশন করে ‘জয় হোক জয় হোক’। ইয়াসমিন মুশতারী শোনান ‘তুমি কোন পথে এলে হে মায়াবি কবি’ ও ‘এ নহে বিলাস’।

এছাড়া একক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন ইয়াকুব আলী খান, সুমন চৌধুরী, জান্নাত-এ-ফেরদৌসী ও রেহানা মশিউর রহমান। নজরুলের গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল। নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন নিরঞ্জন অধিকারী।