মিলল ৪০ হাজার বছর আগের নেকড়ের বিস্ময়কর আকারের কাটা মাথা

single-news-image

৪০ হাজার বছর আগের নেকড়ে

সাইবেরিয়ায় ৪০ হাজার বছর বয়সী বরফ যুগের নেকড়ের কাটা মাথা পাওয়া গেছে। বিস্ময়কর আকারের কাটা মাথাটি হিমায়িত অবস্থায় মিলেছে। প্রকাশিত কিছু ছবিতে নেকড়ের কাটা মাথাটি প্রদর্শন করা হয়েছে যার আকার বিস্ময় জাগানিয়া। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নেকড়েটির কাটা মাথা এখনও স্ফীত অবস্থায় রয়েছে। 

সাইবেরিয়ার বরফে জমে থাকা অবস্থায় নেকড়ের মাথাটি পাওয়া গেছে। এর মস্তিস্ক এখনও অবিকৃত অবস্থায় রয়েছে। 

নেকড়ের মাথাটির আকার বিস্ময় জাগানিয়া

বিজ্ঞানীরা একে ‘এককভাবে প্লেইষ্টোসিন যুগের নেকড়ের প্রথম অনন্য আবিস্কার যার টিস্যুগুলো অক্ষত রয়েছে’ বলে বর্ণনা করেছেন।

স্থানীয় অধিবাসী পাভেল এফিমভ টিরেকিথা নদী দ্বারা বেস্টিত পার্মাফ্রোস্ট এলাকায় নেকড়ের মাথাটি খুঁজে পেয়েছেন। মনে করে হচ্ছে, নেকড়ের মাথাটি প্রাচীনকালের কোনো শিকারীর জয়ের স্মারক বস্তু (ট্রফি)। 

এই বিস্ময়কর আবিষ্কারটি ম্যামোথসহ হিমায়িত পশুদের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে টোকিওতে একটি প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।

নেকড়েটি এ যুগের সাইবেরিয়ান নেকড়ের চেয়ে অনেক বড় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এটার রয়েছে ‘ম্যামথের মতো’ পুরু চামড়া ও ‘ফ্যাঙ্গস’। 

রাশিয়ান বিজ্ঞানী ডঃ আলবার্ট প্রোটিপোভভ বলছেন, এটি একটি সম্পূর্ণরূপে আবিষ্কৃত প্লাইসটোসিন যুগের নেকড়ে যার টিস্যুগুলো এখনও সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। 

তিনি বলেন, আধুনিক যুগের নেকড়েদের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে কীভাবে এই প্রজাতিগুলো উন্নত হয়েছে এবং তার চেহারা পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা কাজ করব। 

এই নেকড়ের মাথাটি প্রায় ১৬ ইঞ্চি দীর্ঘ যা সাইবেরিয়ার আধুনিক যুগের নেকড়ের পুরো দৈর্ঘ্যের প্রায় অর্ধেক। 

জাপানি বিজ্ঞানীদের মতে, এই নেকড়েটির বয়স ৪০ হাজার বছরেরও বেশি।  

সংবাদ মাধ্যম সাইবেরিয়ান টাইমস বলছে, সুইডিশ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’র বিশেষজ্ঞরা প্লাইস্টোসিন যুগের এই শিকারী নেকড়েটির ডিএনএ পরীক্ষা করবে।  

বরফ যুগের সিংহশাবক

নেকড়েটি স্পার্টাক নামের বরফ যুগের একটি সিংহশাবকের পাশে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। 

টোকিওর জাকি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন- এর অধ্যাপক নাওকি সুজুকি বলেছেন, এই নেকড়েটির পেশী, অঙ্গ এবং মস্তিস্ক ভালো অবস্থা রয়েছে। 

তিনি বলেন, এ যুগের সিংহ এবং নেকড়ের সঙ্গে তুলনা করে তাদের (বরফ যুগের প্রাণী) শারীরিক ক্ষমতা এবং বাস্তুবিদ্যা মূল্যায়ন করতে চাই আমরা। 

সূত্র : দ্য সান