শ্রীলংকায় ৩ গির্জা ও ৩ হোটেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ২১৫; আহত ৪ শতাধিক

single-news-image

ছবি: বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

শ্রীলংকার রাজধানি কলম্বোসহ কয়েকটি স্থানে দফায় দফায় বিস্ফোরণে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। 

আজ রবিবার সকালে শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে।  এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল ওই ঘটনায় ২০ জন মারা গেছে। তারপর বলা হয় ৭৯ জন নিহত হয়েছে।

আর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।  সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গির্জার পাশের একটি হোটেলে কিছুক্ষণ আগেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। 

এ ছাড়া আরও ৪ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

শ্রীলংকার পুলিস ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে ওই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯০ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

আজ সকালে দেশটির রাজধানি কলম্বোর উত্তরাঞ্চলের গির্জা ও নিকটবর্তী নেগোম্বা শহরের গির্জা এবং আশপাশের কয়েকটি হোটেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

রবিবার খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রার্থনার জন্য খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা গির্জায় জড়ো হতে থাকেন। আর এর মাঝেই পৃথক জায়গায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, হিরো নিউজ, বিবিসি

শ্রীলংকা সম্পর্কে কিছু তথ্য:


শ্রীলংকার ধর্মীয় স্থানগুলো পর্যটকদের বড় আকর্ষণের জায়গা।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা গত কয়েকশ বছর ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে।

কিন্তু দেশটিতে বহু বছর ধরে তুমুল গৃহযুদ্ধ চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে এ যুদ্ধ চলেছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে।

২৫ বছর ধরে চলা সে সংঘাতের অবসান হয় ২০০৯ সালে।

সরকারী বাহিনী যখন বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাটি দখল করে নেয় তখন গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।

১৬ শতকের পর পর্তুগীজ এবং ডাচরা শ্রীলংকা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা স্বাধীনতা লাভ করে।

শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫৬০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠি যারা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ।

এছাড়া মুসলিম ১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৭ শতাংশ।