ট্রেন টু ইন্ডিয়া: অন্য এক বাংলার স্মৃতি˗ একটি অনবদ্য অনুবাদ

single-news-image

(আপলোড: ০০:২৬, নভেম্বর ০৮, ২০১৮)

জাকির হোসেন:

অনেকদিন পর একটা সরস অনুবাদ গ্রন্থ পাঠ করলাম। নামট্রেন টু ইন্ডিয়া: অন্য এক বাংলার স্মৃতি।বইটি লিখেছেন মলয় কৃষ্ণ ধর ‘Train to India−Memories of Another Bengal’ শিরোনামে। আর বাংলায় অনুবাদ করেছেন কথাশিল্পী অনুবাদক হাসান জাহিদ। বইটি এইবছর (২০১৮অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় এবং বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসা পায়

বইটি পাঠ করে আমারও মনে হয়েছে যে, অনুবাদ সাহিত্যে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন

গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ, এবং এর দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ তৈরি করেছেন ধ্রুব এষ

১৯৪৭এরপার্টিশন, লেখকের নিজ চোখে দেখা নিজ অভিজ্ঞতায় উপমহাদেশে মানব ট্র্যাজেডির অনবদ্য বর্ণনা এবং ভৈরব অঞ্চল সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য এবং চমকপ্রদ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে পেঙ্গুইন, ইন্ডিয়া থেকে ২০০৯ সালে প্রকাশিত এই স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থে। এতে অনেক অজানা তথ্য উন্মোচিত হয়েছে, নিজ অভিজ্ঞতাপ্রসূত, এবং ইতিহাসে স্থান পাওয়ার মতো হলেও এসব তথ্য কোথাও লিপিবদ্ধ হয়নি। এরকমটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন অনুবাদক তাঁর ভূমিকায়।

বিভাগপূর্ব পরের কিছুটা সময়ে ভৈরবের একজন দুর্ধর্ষ ডাকাত রমজান আলী সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে গ্রন্থে। লেখক মলয় কৃষ্ণ সেই ডাকাতকে দেখেছেন একজন স্বদেশি ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের কর্মী হিসেবে। তিনি রমজান আলীর মহত্ত্বের কিছু দিকও তুলে ধরেছেন

অনুবাদ কোথাও হোঁচট না খাওয়ার মতো অনবদ্য সাবলীল। মূল লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়বস্তু পাঠককে শেষাবধি টেনে নেয়ার মতো রসালো। এই বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতে অনুবাদকের শ্রম মেধার ছাপ বইটির পরতে পরতে দৃশ্যমান। অনুবাদকের অসাধারণ দক্ষতায় লেখকের ঘটনাবহুল বর্ণনা  চিত্রকল্পের মতো ভেসে ওঠে মানসপটে

গ্রন্থপাঠে আমার মনে হয়েছে, প্রতি বর্ণনায়, তথ্যে লেখকের দর্শনের বহিঃপ্রকাশে অনুবাদক আগাগোড়া সতর্ক সৎ থেকেছেন

সবশেষে বলব, অনূদিত বইটি পাঠককে নিয়ে যাবে কোনো রূপকথার রাজ্যে, যার পুরো কৃতিত্বই সুলেখক দক্ষ অনুবাদক হাসান জাহিদের। তাঁর কাছে এমন সাহসী স্বচ্ছ আরো অনুবাদ আশা করছি