লক্ষ্মীপুরের রহমতখালী খালে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

single-news-image

(আপলোড: ১৭:৫২, জুলাই ২৯, ২০১৮)
সোহেল রানা, লক্ষ্মীপুর:

একদিকে সদর উপজেলার কালিরচর গ্রাম, অন্যদিকে কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন। মাঝখানে রহমতখালী খাল। সেতু না থাকায় এটি পারাপারে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। বর্ষায় অতিরিক্ত স্রোতের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষকে। এরই মধ্যে শিশু ও শিক্ষার্থীসহ অনেককে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

অথচ সেতুটি নির্মাণ হলে ভোগান্তি লাগবের পাশাপাশি যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতো বলে মনে করে স্থানীয়রা। তারা জানায়, টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর গুচ্ছগ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এ খাল। দুই উপজেলার মানুষকে এটি পার হয়েই যেতে হয় শহর, হাট-বাজার, অফিস-আদালত ও স্কুল-কলেজে। বছরের পর বছর নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা।

দুই পাশের গ্রামগুলোতে প্রচুর সবজি চাষ হয়। কিন্তু সেতু না থাকায়, সঠিক সময় তা বাজারে নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে চাষিদেরকে অল্প দামে খালপাড়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয় কষ্টের ফসল।

সরেজমিনে দেখা যায়,  প্রায় তিনশ মিটার প্রস্থ কালিরচর গ্রামের জল্লাদের খেয়া। খালের দুই পাশে লম্বা বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা একটি রশি। সেই রশি টেনে টেনে পার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিশুসহ ৮ গ্রামের মানুষ।

মেঘনা নদীর সঙ্গে খালটির সংযোগ থাকায় বর্ষাকালে জোয়ারে কচুরিপাতা জমে যায়। ফলে কেউ সাঁতার দিয়ে, কেউবা কষ্ট করে কচুরিপাতা সরিয়ে রশি টেনে নৌকায় পার হয়। তবে কচুরিপাতা জমে থাকা অবস্থায় বেশিরভাগ সময় নৌকা চলে না। এছাড়া একটি মাত্র নৌকা পারাপারের মাধ্যম হওয়ায়, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে অনেকে সঠিক সময় গন্তব্যে যেতে পারে না।

টুমচর আসাদ একাডেমীর অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলেন- ‘খালটি পার হওয়ার জন্য দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।  তাই সঠিক সময় স্কুলে যেতে পারি না। অন্যদিকে খালে কচুরিপাতা জমে থাকার কারণে যেদিন নৌকা চলে না, সেদিন আর স্কুলে যাওয়া হয় না।

কলেজ শিক্ষার্থী আল ফয়েজ হোসেন রাকিব বলেন- ‘খাল পারাপারের সময় কয়েকদিন নৌকা থেকে পড়ে গিয়েছি। এতে সব ভিজে গিয়েছে।  আমাদের এত কষ্ট দেখেও কেউ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। দুই পাড়ের লোকজন বেশিরভাগ দরিদ্র হওয়ায়, নিজেরাও সেতুর বিকল্প কিছু করতে পারছে না’।

পল্লি চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম জানান- ‘সেতু না থাকায়, সঠিক সময় রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারি না’।

কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন এলাকার বাসিন্দা নুর ইসলাম দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে রয়েছেন অসুস্থ নাতি জাহিদকে নিয়ে। গন্তব্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল। তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান, জেলা শহরে যাওয়ার সহজ পথ এটি, তাই এ পথেই যাতায়াত করেন ।

মাঝি জামাল মিয়া জানান- ‘রশি টেনে খাল পার করতে খুব কষ্ট হয়। স্থানীয়দের কথা চিন্তা করেই এ কাজ করি। বর্ষাকালে অনেক পানি ও ঢেউ থাকে। তখন রশি টানতে খুবই কষ্ট হয়’।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিন লোলা বলেন, রহমত খালী খালের উপর একটি সেতুর অভাবে এখানকার মানুষের দুর্ভোগের কথা প্রশাসনকে অনেকবার জানিয়েছে। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি ছাড়া এ সেতু কখনো হবে না।

সদরের ইউএনও মোহাম্মদ শাজাহান আলী বলেন- ‘সেতু সঙ্কটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা আমার জানা নেই। কেউ লিখিতভাবে জানালে, সিনিয়র কর্মকর্তাদের অবহিত করব’।