দিয়ে গেলে গাভী, শিখিয়ে গেলে মানবতা

single-news-image

(আপলোড: ১:২১, জুলাই ২৪, ২০১৮)

রুদ্র রুহান, বরগুনা:

বিষখালীর তীব্র ভাঙনে গত কয়েক বছরে ভিটেমাটি সব নদীতে বিলীন। বরগুনার বামনা লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা রুবীনার একমাত্র সম্বল ছিল একটি গাভী। পরম যত্নে এটি লালন পালন করতেন তিনি। কিন্ত বিধি বাম। ১২ জুলাই রুবিনার গাভীটি অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন ফেসবুক ভিত্তিক সমাজকল্যাণ ডেইরী ফার্ম গ্রুপের সদস্যরা। রুবীনার আহাজারি তাঁদের বেদনার্ত করে।

গ্রুপের অ্যাডমিন শেখ রাসেল উদ্যোগ নেন রুবীনাকে একটি গাভী দেয়ার। গ্রুপের ব্যবস্থাপক অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনার পর অর্থ সংগ্রহ করেন। এক লাখ টাকায় বাচ্চাসহ একটি গাভী কিনেন। জাহিদুল হক বাবুর তত্ত্বাবধানে সুদূর ঝিনাইদহ থেকে এটি কিনে রোববার বরগুনা আনা হয়।

ওই দিন দুপুরেই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বাচ্চাসহ গাভীটি হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহমেদ, গ্রুপের পরিচালক শেখ রাসেল, ব্যবস্থাপক আল-আমিন, সোহেল ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ।

পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বিপিএম বলেন- ‘তরুণদের এমন উদ্যোগ সত্যি প্রসংশনীয়। তাঁদের প্রতি আমার সাধুবাদ রইলো। শুধু বলবো, আপনারা আজ যা শিখিয়ে গেলেন তা থেকে তরুণদের অনেক কিছু শেখার আছে’।

রুবীনা বেগম বলেন- ‘বোজজালাম মোর সব কিছু শ্যাস অইয়া গ্যাছে, মরণ ছাড়া এহন মোর কোনো আর পথ নাই। এই ভাইয়ারা যে মোরে গরু কিইন্না দেছে, হ্যাগো লইগ্গা নামাজ পইড়্যা দোয়া হরমু। আল্লায় যেন হেগো সবাইরে ভালো রাহে’।

গ্রুপরে অ্যডমিন শেখ রাসেল বলেন- ‘রুবিনা বেগমকে গাভীটি কিনে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতেও খামারীদের সহায়তায় এ ধরনের কাজে অংশ নেয়ার ইচ্ছে রয়েছে’।