দিনাজপুরে চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২-৩ টাকা

single-news-image

(আপলোড: ২২:৫০, ২৮ জুন, ২০১৮)

সালাহ উদ্দিন আহমেদ, দিনাজপুর:

তিনটি কারণ দেখিয়ে বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের চালের দাম। এগুলো হলো- আমদানি শুল্ক বেড়ে ২৮ শতাংশ হওয়া, ধানের দাম মণপ্রতি এক থেকে দেড়শত টাকা বৃদ্ধি এবং ঈদের ছুটিতে চাতাল বন্ধ থাকা।

তবে আড়ত, পাইকারি বাজার ও সরকারি গোডাউনে পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকার তথ্য মিলেছে ‘ঢাকা ডন’ এর অনুসন্ধানে। খাদ্য কর্মকর্তারা জানান, আরোপিত বাড়তি শুল্ক জুলাইয়ের আগে কার্যকর হওয়ার কথা নয় ।

খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা দিনাজপুরে আমন, বোরো এবং গমসহ তিনটি ফসল মিলে উৎপাদিত হয় প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য। এর মধ্যে জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য যায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

জানা গেছে, চাহিদা না থাকায়, বেচাকেনা তেমন নেই। অথচ হঠাৎ বাড়ানো হয়েছে দাম। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তিন দিনের মধ্যে মোটা গুটি চালের দাম কেজিতে দুই টাকা করে বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৩৬ টাকা কেজিতে। পাশাপাশি সুমন স্বর্ণ এক টাকা বেড়ে হয়েছে ৪২ টাকা, ২৮ জাত তিন টাকা বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা, চিকন কাঠারি ৭০, আর বাসমতি জাত বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে দাম বাড়ার প্রকৃত কারণ জানাতে পারছে না খুচরা বিক্রেতারা।

শহরের বাহাদুর বাজারে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, ধানের দর বস্তায় একশ থেকে দেড়শত টাকা বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বাড়তি দাম আদায় করে নিচ্ছে মিল মালিকরা। কিন্তু মৌসুম শুরুর ভাগেই কৃষকের কাছ থেকে সস্তায় কাঁচা ধান কিনে, অটোমিলের ডায়ারে শুকিয়ে অতিরিক্ত ধানের মজুদ রেখেছেন মিল মালিকরা।

প্রায় দুইশ অটো এবং মেজর হাসকিং মিলসহ প্রায় দুই হজারের মতো চালকল রয়েছে দিনাজপুর সদরের পুলহাট ও আশপাশের হাটবাজারে।

মিল মালিকরা জানান, ঈদের ছুটিতে মিল বন্ধ থাকায়, চাল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে দাম নেমে আসবে ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, দিনাজপুরের ২৫টি এলএসডি এবং একটি সিএসডি গোডাউনে ধারণক্ষমতা ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বোরো মৌসুমে ৩৮ টাকা কেজিতে মিল মালিকদের কাছ থেকে ৯৫ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় সাত লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। পাওয়া গেছে সাত লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য।

এদিকে দেশের বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্রুপের নেতা হারুন উর রশিদ হারুন জানান, চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায়, হিলি দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা নয় হাজার মেট্রিক টন চাল খালাসের অপেক্ষায় আটকা পড়েছে। বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। আগামী রবিবার রিটের রায় হতে পারে। বাড়তি শুল্ক দিলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হবেন বলে জানান হারুন উর রশিদ।

অন্য একটি সূত্র জানায়, আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের আদেশ হলে, বাংলাদেশের বাজারে বিক্রির আশায় ২০ হাজার ট্রাকের বহর নিয়ে বালুরঘাটে অপেক্ষায় আছে ভারতের রপ্তানিকারকরা। ফলে চালের বাজার তেজি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।