শনি-বৃহস্পতি গ্রহে হীরকবৃষ্টি !

single-news-image

ডন ডেস্ক

মাছ, ব্যাঙাচি বা মাকড়সা আকাশ থেকে পড়ছে, এরকম খবর মাঝে-মধ্যে শোনা যায়। কিন্তু হীরা? এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও এখন পযর্ন্ত ঘটেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৮৩০ মিলিয়ন মাইল দূরের শনি ও বৃহস্পতি গ্রহে এমনটি ঘটছে!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোরনিয়ায় নাসার ‘জেট প্রপালশন ল্যাব’ গবেষণার মাধ্যমে ২০১৩ সালে জানিয়েছে, শনি ও বৃহস্পতিতে হীরকবৃষ্টি হয়ে থাকে।

প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. কেবিন বেইনস বলছেন- শনিতে প্রতি বছর এক হাজার টনের বেশি হীরা সৃষ্টি হয়।

প্রথমে এই বক্তব্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, ড. কেবিন বেইনসের টিমের সিদ্ধান্ত রসায়ন শাস্ত্রের মূলনীতিরই অংশ বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শনির বায়ুমণ্ডলের এক ভাগের প্রায় অরধেক মিথেন গ্যাসসমৃদ্ধ। ২০০৪ সাল থেকে নাসার মহাকাশযান ‘ক্যাসিনি’ গোলাকৃতির শনিকে প্রদক্ষিণ করছে এবং ছবি পাঠাচ্ছে। তারা জানিয়েছে- শনি গ্রহে হারিকেনের মতো বজ্রঝড় হয়।

 

ড. ক্যাবিন বেইনস এবং তার গবেষণাপত্রের সহ-লেখক বিজ্ঞানী মনা ডেলিস্কি একটি সিদ্ধান্তে আসলেন। সেটি হলো- গন্ধ ও রংহীন মিথেন গ্যাস বজ্রপাতে পুড়ে কালো ছাই বা কার্বনে পরিণত হয়। ওই কালো কার্বনের মেঘ বৃষ্টি আকারে পড়ে তৈরি হয় নরম গ্রাফাইট। গ্রাফাইট বায়ুমণ্ডলের প্রচণ্ড চাপে গ্রহটির কেন্দ্রের দিকে গেলে, শক্ত বস্তুতে পরিণত হয়। যাকে বলা হয় হীরা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ০.২% মিথেন গ্যাস রয়েছে। সেখানেও একই ঘটনা ঘটছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দুটি গ্রহেরই তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি। ওই তাপে হীরা বেশি দিন শক্ত থাকে না। ড. ক্যাবিন বেইনস বলছেন, ওই হীরা শনির উপরিভাগের কাছাকাছি আসলে গলতে শুরু করে। কারণ সেখানে তাপমাত্রা ১৩ হাজার ৯৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। আর তখন তা অন্য ধাতুতে পরিণত হতে পারে।

কিন্তু কেউ কেউ হীরকবৃষ্টির এই ধারণার সঙ্গে একমত নয়। এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী উইলিয়াম হাভার্ড মনে করেন, এত অল্প মিথেন দিয়ে হীরা তৈরির মতো কার্বন সৃষ্টি হতে পারে না। আর যে অল্প পরিমাণ কার্বন সৃষ্টি হয়, তা ক্রমবর্ধমান চাপ ও তাপের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়।

শুধু শনি ও বৃহস্পতি নয়, বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন, উরেনাস ও নেপচুনে হীরার ভাণ্ডার রয়েছে। কারণ ওই দুটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ১৫% মিথেন গ্যাস রয়েছে। তাছাড়া তাপমাত্রা ছয় হাজার ৪১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি নয়। এর বেশি তাপে হীরা গলে যায়।

গবেষকরা বলছেন, ইউরেনাস ও নেপচুনে ছড়িয়ে আছে প্রচুর হীরা। শুধু কুড়ানোর অপেক্ষা! একদিন হয়তো তা সম্ভব হবে।

সূত্র: dogonews.com